Monday, July 2, 2012

হিযাব পরা নিয়ে অভিযোগ আমার সোনার দেশে

৯০% মুসলিমের এই দেশে (চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজ) মুসলিম মেয়েদের ধর্ম পালনের অধিকার নেই ! হিজাব পড়তে যদি কেউ জোর করতে না পারে তাহলে এই কুলাঙ্গারগুলো হিজাব খোলার জন্য জোর করে কিভাবে????
মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরিধান ও নামাজ পড়তে বাধা দেয়ার কারণে ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ- হিজাব নিয়ে চট্টগ্রাম নার্সিং
ইনস্টিটিউটে উত্তেজনা

হিজাব পড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের মতবিরোধের জের ধরে সোমবার চট্টগ্রাম সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে।

কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ড্রেস কোড মানতে একদল ছাত্রী অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আর এ নিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে ছাত্রীদের অভিযোগ, মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরিধান ও নামাজ পড়তে বাধা দেয়ার কারণে ছাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্ঠি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হিজাব নিয়ে সোমবার সকাল থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত ইনস্টিটিউটে অচলাবস্থা বিরাজ করে। কয়েকজন শিক্ষিকার সঙ্গে বিক্ষুব্ধ ছাত্রীদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় এবং শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের জানালে তারা সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান।

বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রোনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হলে নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হোসনে আরা পুলিশ পাহারায় আন্দোলনরত মেয়েদের হলে নিয়ে যান।

সেখানে উপস্থিত ভীতসন্ত্রস্ত ৭০ থেকে ৮০ ছাত্রী সাংবাদিকদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় মুসলিম পরিবারের হিজাব পরিধানকারী ছাত্রীরা তাদের ওপর চলমান বিভিন্ন নির্যাতনের বর্ণনা দেন। হিজাব এবং নামাজ পড়ার কারণে তাদের ক্লাস, পরীক্ষা এবং ওয়ার্ড এ ডিউটিসহ পদে পদে বাধা দেয়ার নজিরবিহীন নির্যাতনের কথা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

ছাত্রীরা জানান, পূর্বে হিজাব নিয়ে সমস্যা করলেও এবার নামাজ পড়া এবং নামাজ ঘরের জায়গা নিয়েও ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ নতুনভাবে ঝামেলা শুরু করেছে। সোমবার সকালে অধ্যক্ষ্যের নেতৃত্বে একদল শিক্ষিকা হোস্টেলের একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের নামাজ ঘরে রীতিমত হামলে পড়ে। তারা মসজিদে রাখা বিভিন্ন ধর্মীয় বই নিয়ে কটাক্ষ করে এবং ছাত্রীদের ধর্ম পালন নিয়ে কটূক্তি করে বলে ছাত্রীরা অভিযোগ করেন।

এ দিকে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ নোটিশ বোর্ডে ড্রেস কোড অনুযায়ী পোশাক পরিধানের কথা উল্লেখ করে এ নির্দেশ অমান্যকারীদের ক্লাস এবং ওয়ার্ড ডিউটি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা যায়।

হিজাব পড়ে ক্লাস করতে যাওয়া ছাত্রীদের ক্লাস এবং পরীক্ষা হল থেকে বের করে দিয়ে বাকিদের নিয়ে ক্লাস এবং পরীক্ষা নেয়ার অভিযোগ করেন ছাত্রীরা।

সরেজমিনে ইনস্টিটিউট ঘরে আসা এক মিডিয়াকর্মী জানায়, কলেজ কর্তপক্ষ যে ড্রেস কোর্ডের কথা বলে হিজাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সে ড্রেস কোডও ছাত্রীরা মেনে চলছে না। ড্রেস কোডে মেয়েদের পেছনে বেল্ট সম্বলিত কালো সু পরিধানের কথা বলা হলেও পুরো ক্যাম্পাসে সু পড়া ছাত্রীর দেখা মেলেনি। কলেজ ড্রেস কোর্ডে কোমরে বেল্ট পড়ার বিষয়টি থাকলেও কোন ছাত্রীকে সেটি পড়তে দেখা যায়নি। এমনকি মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ডিউটিরত বিভিন্ন শিক্ষার্থীদেরও ড্রেস কোডের এসব বিষয় পালন করতে দেখা যায়নি।

ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ হোসনে আরার অভিযোগ, “ভর্তির সময় এসব ছাত্রীরা লিখিতভাবে ড্রেস কোড মেনে চলার অঙ্গীকার করলেও এখন মানতে অস্বীকার করছে।”

এদিকে আসন্ন ফাইনাল পরীক্ষায় হিজাব পরিহিতা কোনো ছাত্রী ফরম পুরণ করতে দেয়া হবে না বলেও হুমকী দেয়া হয়েছে। ছাত্রীরা হিজাব পরে সরকারি নিয়ম অমান্য করেছে এবং সে কারণে তাদের কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়।

শিক্ষিকাদের রোষানল থেকে সিনিয়র-জুনিয়র কোনো ব্যাচ বাদ পড়ছে না। শিক্ষিকাদের অব্যহত চাপ, পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেয়ার হুমকী এবং অপমান সহ্য করতে না পেরে কিছু ছাত্রী বাধ্য হয়ে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হিজাব পড়া বাদ দিয়েছে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন অনেক ছাত্রী।

অন্যদিকে কিছু ছাত্রী অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কলেজ কর্তপক্ষের কাছে ছাড়পত্র চাইলে সেটাও দেয়া হচ্ছে না বলে জানায় নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক ছাত্রী।

কলেজের মেট্রন মিনারা খানম বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নেতাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “হিজাব পড়া এসব ছাত্রীদের ওয়ার্ডে ডিউটি করতে বিএমএ থেকে আপত্তি করা হয়েছে।”

অন্যদিকে কলেজে হিজাব না পড়া অন্য ছাত্রীরা এবং ছাত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতে এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছে। তাদের নানা অন্যায় আচরণ সহ্য করতে হচ্ছে।

তারা হিজাব পড়া ছাত্রীদের দাবিকে ন্যায্য বলে সমর্থন দিয়ে বলেন, “ধর্ম পালনে বাধা দেয়ার অধিকার তো কারো নেই।”


নার্সিং অধিদফতরের অধিনে চার বছর মেয়াদী বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স নিয়ে চট্টগ্রাম সরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউট ২০০৮ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে। শুরু থেকে কলেজ কর্তপক্ষের বিভিন্ন অন্যায় আচরণ এবং সেশনজটের কারণে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কলেজটি একাধিকবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়।